গড়াডোবায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ


hasan প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন / ০
গড়াডোবায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৪ নম্বর গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত খালিদ সাইফুল্লাহ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে তিনি ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

খালিদ সাইফুল্লাহর বাড়ি কেন্দুয়ার বিদ্যাবল্লভ গ্রামে। বর্তমানে তিনি কেন্দুয়া পৌরসভার বাদে আঠারবাড়ীতে বসবাস করছেন। তাঁর বাবা মাওলানা আজিজুল হক ছিলেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত একজন শিক্ষক ও সংগঠক। তিনি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি শুরু করে ২০০৭ সালে কেন্দুয়া উপজেলা উলামা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির কাউন্সিলর এবং সর্বশেষ কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও গড়াডোবা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মদন বাস্তা মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ২০১১ সালে কেন্দুয়া উপজেলা তরুণ প্রজন্ম দলের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে। ২০২০ সালে তাঁকে ৪ নম্বর গড়াডোবা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ঘোষণা করা হলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় সারাদেশের ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ২০২১ সালে তিনি কেন্দুয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। একই সঙ্গে বর্তমানে ৪ নম্বর গড়াডোবা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৮ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছিল বলে জানান খালিদ সাইফুল্লাহ। তবে পরবর্তীতে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় দুই দফায় মোট ৮১ দিন কারাভোগ করেছেন বলেও তিনি জানান।

শিক্ষাজীবনে খালিদ সাইফুল্লাহ ওয়াই মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। পরে কেরানীগঞ্জের আমান উল্লাহ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। গাজীপুরের আবেদা মেমোরিয়াল প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে স্বল্পমেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করে ৬৩তম ব্যাচে ফার্মাসিস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

খালিদ সাইফুল্লাহর পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর ছোট চাচা সায়দুল হক বর্তমানে গড়াডোবা ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তাঁর স্ত্রী নাসরিন জাহান গড়াডোবা ইউনিয়ন বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্বে রয়েছেন।

খালিদ সাইফুল্লাহর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও নানা হয়রানি ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে একটি রাতও নির্বিঘ্নে থাকতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, কেন্দুয়া-আতপাড়ার বিএনপির রাজনীতিতে ডা. রফিকুল ইসলাম হিলালী (হিলালী সাহেব)-এর রাজনৈতিক পথচলার শুরু থেকেই তাঁর পরিবার তাঁর সঙ্গে ছিল এবং এখনও রয়েছে। তাঁর বাবার মৃত্যুর সঙ্গেও ওই রাজনৈতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহের যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

খালিদ সাইফুল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের আগে ১১ তারিখ রাতে বিদ্যাবল্লভ গ্রামে ঘোড়ার সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর বাবার বিরোধের ঘটনা ঘটে। পরে রাতভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে তাঁর বাবা আত্মগোপনে ছিলেন। পরদিন অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ১৬ তারিখ তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৭ তারিখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আসন্ন গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করতে চান। দলীয় সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় মানুষের সমর্থন পেলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।