
আসন্ন কেন্দুয়া পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির তিন নেতার নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে—মজনুর রহমান খন্দকার, শফিকুল ইসলাম শফিক ও জসিমউদ্দীন আহমেদ খোকন। তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, অতীতের নির্বাচনী ফলাফল, সাংগঠনিক অবস্থান ও জনসম্পৃক্ততা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
তিন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতার দিক থেকে মজনুর রহমান খন্দকারকে সিনিয়র হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ। ২০১১ সালের কেন্দুয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৩ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়েছিলেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন।
ওই নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী আব্দুল হক ভূঁইয়া ৫ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে মজনুর রহমানের শক্ত অবস্থানের চিত্রও উঠে আসে। তাঁর নিজ এলাকা দিগদাইর কেন্দ্রে তিনি ৪৪৩ ভোট পান, বিপরীতে আব্দুল হক ভূঁইয়া পান ৫৭ ভোট। অর্থাৎ নিজ কেন্দ্রে মজনুর রহমান ৩৮৬ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
অন্যদিকে আলীপুর কেন্দ্রে আব্দুল হক ভূঁইয়া ১ হাজার ৪৯১ ভোট এবং মজনুর রহমান ১৩০ ভোট পান। ফলে ওই একটি কেন্দ্রেই আব্দুল হক ভূঁইয়া ১ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধান তৈরি করেন। শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮৫ ভোটের ব্যবধানে আব্দুল হক ভূঁইয়া বিজয়ী হন।
২০১১ সালের নির্বাচনে প্রায় চার হাজার ভোট পাওয়া মজনুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দুই পরিবারের পৌর নেতৃত্বের বাইরে থেকে তিনি ওই পরিমাণ ভোট পাওয়ায় তাঁর নিজস্ব ভোটভিত্তি ও জনগ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি তখন আলোচনায় আসে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচিত আরেক নাম নাম শফিকুল ইসলাম শফিক। ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক এই নেতা এর আগে দুইবার কেন্দুয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
২০১৬ সালের পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত আসাদুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে আসাদুল হক ভূঁইয়া ৭ হাজার ৭১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং শফিকুল ইসলাম শফিক পান ২ হাজার ৭৫৪ ভোট।
এর পাঁচ বছর পর ২০২১ সালের নির্বাচনেও একই দুই প্রার্থী আবার মুখোমুখি হন। ইভিএমে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আসাদুল হক ভূঁইয়া ৯ হাজার ১৭৬ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক পান ২ হাজার ২৫৬ ভোট।
দুই নির্বাচনে পরাজিত হলেও শফিকুল ইসলাম শফিকের রাজনৈতিক পরিচিতি ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা তাঁকে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনায় রেখেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে তাঁর নামও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আসন্ন পৌর নির্বাচনে তিনজনের মধ্যে নতুন মুখ জসিমউদ্দীন আহমেদ খোকন। ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা এবার প্রথমবারের মতো মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন । নতুন প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম বিএনপির তরুণ ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনায় রয়েছে।
মজনুর রহমান খন্দকারের পুরনো নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও ২০১১ সালের শক্ত ভোটভিত্তি, শফিকুল ইসলাম শফিকের পরপর দুইবারের মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা এবং জসিমউদ্দীন আহমেদ খোকনের নতুন প্রার্থী হিসেবে সম্ভাবনা—এই তিনটি ভিন্ন সমীকরণকে সামনে রেখে কেন্দুয়া পৌরসভার বিএনপির রাজনীতিতে চলছে আলোচনা।
শেষ পর্যন্ত দল কাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়, সেটিই হবে নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে সম্ভাব্য এই তিন প্রার্থীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নিজ নিজ অবস্থান বিবেচনায় কেন্দুয়া পৌরসভায় বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে প্রতিযোগিতা যে এবারও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
(মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল,কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
আপনার মতামত লিখুন :