
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে আগ্রহীরা মাঠে গণসংযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তাঁদের কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
কেন্দুয়া উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ইউনিয়নগুলো হলো—আশুজিয়া, দলপা, গড়াডোবা, গণ্ডা, সান্দিকোনা, মাসকা, বলাইশিমুল, নওপাড়া, কান্দিউড়া, চিরাং, রোয়াইলবাড়ী-আমতলা, পাইকুড়া ও মোজাফফরপুর।
এই ১৩ ইউনিয়নে রয়েছে ১৩টি চেয়ারম্যান পদ, ১১৭টি সাধারণ সদস্য পদ এবং ৩৯টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদ। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদে মোট নির্বাচিত পদ ১৬৯টি। অন্যদিকে কেন্দুয়া পৌরসভায় রয়েছে মেয়র পদ, নয়টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ এবং তিনটি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদ। সব মিলিয়ে পৌরসভায় নির্বাচিত পদ ১৩টি। উপজেলা পরিষদে রয়েছে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান—তিনটি নির্বাচিত পদ। স্থানীয় সরকার কাঠামোয় কেন্দুয়ায় উপজেলায সব মিলিয়ে নির্বাচিত পদের সংখ্যা ১৮৫টি।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত ভোটার তথ্য অনুযায়ী, কেন্দুয়ার ১৩ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০, নারী ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪১০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। ওই নির্বাচনে কেন্দুয়া উপজেলায় ভোটকেন্দ্র ছিল ৯৬টি। স্থানীয় নির্বাচনের সময়ও কেন্দ্রের সংখ্যা ও সীমানা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
পুরুষ ও নারী ভোটারের ব্যবধানও খুব বেশি নয়। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী সদস্য ও নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের জন্য নারী ভোটারদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ একটি বড় নির্বাচনী বিষয় হয়ে উঠছে।
তফসিলের আগে থেকেই ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি নতুন মুখ নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার বা কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতাও লক্ষণীয়।
তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও ১৩ ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম তৎপরতায় কেন্দুয়ার গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এখন তফসিল ঘোষণার অপেক্ষা—এরপরই পরিষ্কার হবে কারা থাকছেন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
দিন দিন সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সরব হয়ে উঠেছেন তাদের কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও। ফেসবুকে প্রার্থীদের ছবি, গণসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড, মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে প্রচারণা করা হচ্ছে। কোথাও প্রার্থীর পক্ষে চলছে প্রচার, কোথাও আবার সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
কেন্দুয়ার হাট-বাজার, চায়ের দোকান, সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় আয়োজন, খেলাধুলা কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন জনসমাগমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতাকে সামনে এনে ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে যেমন সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা চলছে, তেমনি সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও নতুন মুখের আগমন ঘটছে। কোনো কোনো ওয়ার্ডে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। কেউ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবর্তনের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নতুন নেতৃত্বের দাবি তুলছেন।
পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডেও সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নিয়ে চলছে আগাম আলোচনা। মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে যেমন রাজনৈতিক অঙ্গনে হিসাব-নিকাশ চলছে, তেমনি প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন, আবার কেউ সরাসরি প্রার্থিতার ঘোষণা না দিলেও নিয়মিত গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাঠে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।
তফসিলের অপেক্ষায় থেকেও কেন্দুয়ার নির্বাচনী রাজনীতিতে যে তৎপরতা চলছে, তা এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রস্তুতি ও জনসংযোগের পর্যায়েই রয়েছে। কে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হবেন, কে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন, কারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন কিংবা কোথায় একাধিক প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর।
কেন্দুয়া উপজেলায় এবারের নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রতিযোগিতা নয়; এটি হবে দীর্ঘদিনের স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, নতুন মুখের উত্থান, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং তৃণমূলের ভোটের বাস্তব শক্তিরও পরীক্ষা।
বর্তমানে কেন্দুয়ার গ্রামগঞ্জে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণা স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভোটের আগাম উত্তাপ।
শুরু হয়ে গেছে ভোটের হিসাব নিকাশ । কেন্দুয়ার মাঠ জানান দিচ্ছে, ভোটের লড়াই শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী বাঁশি বাজার—তারপরই সম্ভাবনার এই মাঠ রূপ নেবে প্রার্থিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটের চূড়ান্ত লড়াইয়ে।
সব মিলিয়ে কেন্দুয়ার ১৩ ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যে আগাম তৎপরতা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই আগ্রহ ও তৎপরতা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
(মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল,কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
আপনার মতামত লিখুন :