
নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ওষুধ পুড়িয়ে বিনষ্ট করার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান।
জানা যায়, গত ১২ আগস্ট গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছেন। বিষয়টি পরিচালক (ময়মনসিংহ) ও নেত্রকোনা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়।
অভিযোগের পর ওই দিনই মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ও ভারপ্রাপ্ত ডা. মো. তায়েব হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী তদন্ত কমিটির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, “হাসপাতালের ওষুধ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে স্টোর কিপার নিজের মনগড়াভাবে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছেন। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে স্টোর কিপার নিজেই তার দোষ স্বীকার করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, “মদন স্বাস্থ্য প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়েছি। সোম বা মঙ্গলবার আমাদের পাঁচ সদস্যের কমিটি ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। প্রতিবেদন সঠিক মনে হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আর সঠিক মনে না হলে আমাদের কমিটি পুনরায় তদন্ত করবে।”
উল্লেখ্য, তৌকিক চৌধুরী ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে টিএলসিএ (টিবি অ্যান্ড লেপ্রসি কন্ট্রোল অ্যাসিস্ট্যান্ট) পদে মদন উপজেলা যক্ষা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের অধীনে কর্মরত রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তালিকা প্রস্তুত করার পর তা নির্ধারিত নিয়মে বিনষ্ট করার বিধান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়ম না মেনে তৌকিক চৌধুরী হাসপাতালের একটি কক্ষে নিজ উদ্যোগে ওষুধগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেন।
(নূর মোহাম্মদ জরিপ)
আপনার মতামত লিখুন :