১৪ বছরেও প্রত্যাহার হয়নি সাময়িক বরখাস্ত, বেতন-ভাতা পাচ্ছেন কলেজ শিক্ষক আজিজুল হক


hasan প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ন / ০
১৪ বছরেও প্রত্যাহার হয়নি সাময়িক বরখাস্ত, বেতন-ভাতা পাচ্ছেন কলেজ শিক্ষক আজিজুল হক

নেত্রকোনার মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ও সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা ঘটে। মামলায় প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও কলেজের তৎকালীন গভর্নিং বডির দেওয়া সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এখনো প্রত্যাহার হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সাবেক শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দাবি। তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আজিজুল হক দাবি করেছেন, তিনি মামলায় খালাস পেয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হওয়ার কোনো নোটিশও তিনি পাননি।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রভাষক আজিজুল হক নিজ বাসায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পড়াতেন। ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজ বাসায় ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী ২১ নভেম্বর কলেজ অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ নভেম্বর গভর্নিং বডির উপস্থিতিতে রেজুলেশন করে আজিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে সাবেক কলেজ অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক জানিয়েছেন।

এর আগে ২৪ নভেম্বর ওই ছাত্রীর পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মদন থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি ছিল ১৫/১০৪ নম্বর। মামলার পর আজিজুল হককে কলেজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক বলেন, ‘প্রভাষক আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার স্বাক্ষরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তিনি কারাভোগের পর আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে বেতন বিলসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যান। আমার জানামতে, তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এখনো প্রত্যাহার হয়নি।’

মদন কলেজের সাবেক প্রভাষক ও বর্তমানে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েম বলেন, ‘ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে আজিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ওই রেজুলেশনে আমিসহ আরও প্রায় ২০ জন স্বাক্ষর করেছিলাম। আমার জানামতে, তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। তাহলে তিনি কীভাবে এখনো বহাল আছেন, সেটিই প্রশ্ন।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রভাষক মুহাম্মদ আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘আমি এ মামলায় তিন মাস জেল খেটেছি এবং পরে মামলা থেকে খালাস পেয়েছি। আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে হলে পরপর তিনটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। কিন্তু তারা কোনো নোটিশ দেয়নি। এমনকি আমাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠিও দেওয়া হয়নি। আমার একদিনের বেতনও বন্ধ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়করণের সময় বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে সবকিছুতে আমার বিষয়ে ইতিবাচক ফল এসেছে। সুতরাং আমি সবকিছুতেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।’

কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের দাবি, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার না হলেও আজিজুল হক দীর্ঘদিন ধরে কলেজে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কীভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

 

এ বিষয়ে বর্তমান কলেজ অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘আমি এখানে কয়েক মাস হলো যোগদান করেছি। ঘটনাটি সরকারি হওয়ার আগের। তবে আমার জানামতে, কোনো প্রভাষক এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে নিয়ম অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার বিষয় থাকে।’

 

(নূর মোহাম্মদ জরিপ)