দুই উপজেলার সীমানা নিয়ে বিরোধ, জালিয়ার হাওরে কৃষকদের মানববন্ধন


hasan প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ন / ০
দুই উপজেলার সীমানা নিয়ে বিরোধ, জালিয়ার হাওরে কৃষকদের মানববন্ধন

নেত্রকোনার মদন ও কেন্দুয়া উপজেলার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে মদন উপজেলার জালিয়ার হাওরে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামের বক্তব্যের প্রতিবাদে এবং জালিয়ার হাওরের বাঁধ কেটে পানি বের করে দেওয়া ও মাছ লুটের অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে শনিবার দুপুরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রখর রোদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, জালিয়ার হাওরের কালারিয়া অংশে দুই মৌজায় প্রায় ৪০ শতাংশ জমি মদন উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের। আমন ধান রোপণের জন্য প্রতিবছর নদীর সঙ্গে সংযোগ রেখে একটি নালা তৈরি করা হয়। ওই নালা দিয়ে জমিতে জমে থাকা কচুরিপানা সরানো এবং বোরো মৌসুমে জমির পানি নিষ্কাশন করা হয়।

বক্তারা বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর নোয়াগাঁও গ্রামের ছদ্দু মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কেন্দুয়া উপজেলার মামুদপুর গ্রামের আলী আহমেদ খান। অভিযোগে জালিয়ার হাওরের বেরিবাঁধ কেটে পানি বের করে দেওয়া এবং ১৫ থেকে ২০টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাওরে প্রবেশ করে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি ও লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা।

তারা আরও বলেন, জমির মালিকানা ও দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারণ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়। কার জমি কোথায় রয়েছে, সেটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যায়ে যাচাই করে নির্ধারণ করা উচিত। তাই তদন্ত ও সীমানা নির্ধারণের আগে এ বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শরিফুল ইসলাম শওকত (আকাব্বর), আব্দুস সামাদ মিল্টন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিন, আবু সাহেদ আলী, শামছুল হক মুন্সী, সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মদন থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। তবে তার বক্তব্যের প্রতিবাদে মদনে মানববন্ধন হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, ওসি কী বক্তব্য দিয়েছেন তা তার জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারণ করা হবে।

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দুই উপজেলার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

 

(নূর মোহাম্মদ জরিপ)