
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক সাংবাদিককে হেনস্তা, মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দৈনিক ইনকিলাবের বারহাট্টা প্রতিনিধি জাকিরুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে জাকিরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বারহাট্টা উপজেলা এলজিইডির অধীনে নির্মিত কয়েকটি পুকুর ঘাটের কাজ নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের বিষয়ে জানতে গত সোমবার উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য উপজেলা পরিষদে যান তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, বিকেলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে উপজেলা চত্বরে একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী শুভ চন্দ্র দাস (সরকার) তাকে ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এরপর আরও কয়েকজন সেখানে এসে তাকে ঘিরে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাকিরুল ইসলামের দাবি, নিজের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। পরে তাকে উপজেলা ভবনের নিচতলায় নিয়ে গিয়ে একটি কেচি গেটের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য মুছে ফেলা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ গ্রহণের পর জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে অভিযোগকারী সাংবাদিক জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জানার জন্য বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, এই অভিযোগের বিষয়ে আমি খোঁজ নিবো যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে
(মির্জা হৃদয় সাগর)
আপনার মতামত লিখুন :