
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; জনসচেতনতা সৃষ্টি, অপরাধ প্রতিরোধ এবং মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ারও কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম। এই মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো পুলিশ সদস্য যদি আইন সম্পর্কে সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ, মাদকবিরোধী বার্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কিংবা প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন, তাহলে তা জনসেবার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমানো, আইন সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহজ ভাষায় তৈরি একটি ভিডিও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে এমন তথ্য, যা হয়তো প্রচলিত প্রচারপদ্ধতিতে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ট্রাফিক আইন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট মানুষের উপকারে আসতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ পুলিশের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক ধারণা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
অনেক পুলিশ সদস্যগণ জনসচেতনমূলক কন্টেন তৈরি করছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। নালিতাবাড়ী থানার এস আই শহিদুল ইসলামের জনসচেতনতা মূলক কন্টেট গুলোও প্রশংসার দাবিদার। তার কন্টেন্টের প্রচারের পর কমেন্টে নেটিজনদের রয়েছে ভূয়সী প্রশংসা। ইতোমধ্যে তার ১৯ লাখ ফলোয়ার হয়েছে ফলে প্রমাণ হয় তার কন্টেট মানুষ পছন্দ করে।
তবে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ের বাইরে কনটেন্ট তৈরি করা হলেও পুলিশ সদস্যকে প্রযোজ্য সরকারি আচরণবিধি, পুলিশ বিভাগের নির্দেশনা, গোপনীয়তা এবং পেশাগত শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। ইউনিফর্ম, পদবি ও সরকারি পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধি ও অনুমতির শর্ত অনুসরণ করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত প্রচার কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থ যেন সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে সব ধরনের কনটেন্টকে একই দৃষ্টিতে দেখা সমীচীন নয়। নিছক বিনোদনমূলক ভিডিও, ব্যক্তিগত প্রচার এবং জনস্বার্থে তৈরি তথ্যভিত্তিক সচেতনতামূলক ভিডিওর উদ্দেশ্য ও প্রভাব এক নয়। তাই কোনো পুলিশ সদস্যের কনটেন্ট মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু ভিডিও তৈরির বিষয়টি নয়, বরং এর উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, জনস্বার্থে অবদান এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের পেশাগত মর্যাদা ও শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রেখে জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির সুযোগ থাকলে তা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উৎসাহিত করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্ট নীতিমালা, অনুমোদনের পদ্ধতি এবং গ্রহণযোগ্য কনটেন্টের মানদণ্ড নির্ধারণ করতে পারে। এতে একদিকে যেমন অনিয়মের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে জনকল্যাণমূলক ডিজিটাল উদ্যোগও বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
মূল কথা, পুলিশের পরিচয় শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আইন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করাও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তা পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা এবং সহযোগিতা বাড়ানোর কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
(মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল)
আপনার মতামত লিখুন :