
রাজনীতির উত্তাল রাজপথে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা, কারাবরণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার জনপ্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশায় মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১১ নং চিরাং ইউনিয়নের সন্তান ও কেন্দুয়া পৌর যুবদলের সদস্যসচিব মো. সাইফুল ইসলাম খান শান্তি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ইতোমধ্যে তাঁর নাম স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।
চিরাং ইউনিয়নের চকবাট্টা গ্রামের সন্তান সাইফুল ইসলাম খান শান্তির রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় দুই দশকেরও বেশি সময় আগে। ২০০২ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীর হাত ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীতে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কেন্দুয়া পৌর যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে এ দায়িত্বে রয়েছেন।
রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে আন্দোলন-সংগ্রাম। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। দলের প্রতিকূল সময়ে মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ৩১টি মামলার আসামি হয়েছেন এবং একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ও ফেরারি জীবন কাটানোর কথাও জানান তিনি। তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি।
বরং কারাগার থেকে বের হয়ে প্রতিবারই তিনি আবারও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়েছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়াকেও তিনি নিজের রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককেও নিজের রাজনৈতিক পথচলার অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেন শান্তি। তাঁর বক্তব্য, নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং কখনো তাঁদের থেকে দূরে সরে যাননি। কর্মীদের উৎসাহ ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখাকে তিনি রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন।
‘দল ও জনতার শান্তির জন্য কাজ করতে চান শান্তি। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে শান্তির রাজনীতির কথাই সামনে আনতে চান এই যুবনেতা। তিনি জানান,মানুষ শান্তিপ্রত্যাশী; সমাজে সুখ, শান্তি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখেই মানুষ বসবাস করতে চায়। তাই দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের শান্তি ও কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি মনে করেন, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ নং চিরাং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতার আলোচনা শুরু হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দীর্ঘদিনের দলীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা, যুবদলের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি নিজেকে একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
চিরাং ইউনিয়নের চকবাট্টা গ্রামের এই সন্তান ১৯৮৫ সালের জুলাই মাসে জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় আলীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে সায়মা শাহজাহান একাডেমি এবং কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনা করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজের অভিজ্ঞতাকে এবার ইউনিয়নবাসীর সেবায় কাজে লাগাতে চান সাইফুল ইসলাম খান শান্তি। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, আগামী দিনের পথচলায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেশি শক্তিশালী করতে ও দলীয় আদর্শকে সামনে রেখে পৌর যুবদলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে চিরাং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে এবার জনপ্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশায়—আগামীদিনে চিরাং ইউনিয়নের নতুন মুখ হিসেবে সাইফুল ইসলাম খান শান্তির এই রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিক ভালোবসা এবং চিরাং ইউনিয়নবাসীসহ সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।
(মাঈন উদ্দিন সরকার, কেন্দুয়া -নেত্রকোনা)
আপনার মতামত লিখুন :