
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নাকি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন—শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা সমীকরণ ও আলোচনা। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। তবে এই মহারণে শেষ হাসি আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিই হাসবেন বলে বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
‘বিকাশ প্রেজেন্টস দ্য ড্রিম কাপ উইথ হামজা’ অনুষ্ঠানে ফাইনাল নিয়ে নিজের বিশদ মতামত ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এই মিডফিল্ডার।
হামজা চৌধুরীর মতে, টুর্নামেন্টের অন্যতম পরিপূর্ণ দল স্পেন হলেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও মেসির প্রভাব যে অটুট রয়েছে, সেটি উল্লেখ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের উদাহরণ টানেন হামজা।
হামজা বলেন:
“আর্জেন্টিনার দলে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় রয়েছে। বড় আসরে খেলার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা জয়ের মানসিকতা কাজ করে। তবে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সবার নজর থাকবে লিওনেল মেসির ওপর। তিনি সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস জোগান, নেতৃত্ব দেন এবং প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেন। আমার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন মেসিই।”
মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “মেসি তার দূরদৃষ্টি, ফুটবল বুদ্ধিমত্তা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার সামর্থ্য দিয়ে ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার ক্যারিয়ার যেন রূপকথার গল্প। তিনি অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে জন্মেছেন, তবে শুধু প্রতিভা দিয়ে প্রায় দুই দশক বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়।”
মেসির পাশাপাশি আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের উপস্থিতিকে দলের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন হামজা চৌধুরী। মার্তিনেজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন:
বড় ম্যাচের তারকা: মার্তিনেজ এমন একজন গোলরক্ষক, যিনি মূলত বড় ম্যাচের জন্যই তৈরি। ম্যাচ যত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তিনি তত বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।
নিস্পৃহ ও নির্ভীক: নির্ধারিত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সেভ হোক কিংবা টাইব্রেকার—সব কঠিন পরিস্থিতিতেই মার্তিনেজ অসাধারণ শান্ত ও নির্ভীক থাকেন।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার সাফল্যের পেছনে দীর্ঘদিনের দলীয় বোঝাপড়াকে বড় করে দেখছেন এই বাংলাদেশি মিডফিল্ডার। তার মতে, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলায় দলের সবাই একে অপরকে খুব ভালোভাবে বোঝে এবং তারা জানে কীভাবে শিরোপা জিততে হয়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাদের ওপর বাড়তি চাপ থাকলেও, এই দলটি বারবার প্রমাণ করেছে সেই চাপ সামলানোর সামর্থ্য তাদের আছে।
আপনার মতামত লিখুন :