
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নিজ ফতেপুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে দুটি গাভী, দুটি ছাগল ও কয়েকটি হাঁস পুড়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় আরও একটি গাভী গুরুতর দগ্ধ হয়ে মৃত্যুশয্যায় রয়েছে। এতে কৃষক মোহাম্মদ নজর মিয়ার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক মোহাম্মদ নজর মিয়া প্রতিদিনের মতো মশা তাড়ানোর জন্য গোয়ালঘরে ধোঁয়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগুন জ্বালান। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আগুন থেকেই গোয়ালঘরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে। গোয়ালে থাকা তিনটি গাভীর মধ্যে দুটি ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যায় এবং অপর একটি গুরুতর দগ্ধ হয়। এছাড়া দুটি ছাগল ও কয়েকটি হাঁসও আগুনে পুড়ে মারা যায়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার প্রদান করেন। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে টিন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রহিছ উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ইউএনও নাদির হোসেন শামীম বলেন, “এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা। ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ পূরণ করা সম্ভব না হলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে টিন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনো খাবার প্রদান করা হয়েছে।”
(নূর মোহাম্মদ জরিপ)
আপনার মতামত লিখুন :