কেন্দুয়ার বঙ্গবাজার–কুতুবপুর সড়কের টেকসই সংস্কার চায় এলাকাবাসী


hasan প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ন /
কেন্দুয়ার বঙ্গবাজার–কুতুবপুর সড়কের টেকসই সংস্কার চায় এলাকাবাসী

নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আমতলা–রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের বঙ্গবাজার থেকে নন্দিত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া কুতুবপুর গ্রামের শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী ছাড়াও আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে উপজেলা সদর, পার্শ্ববর্তী রায়েরবাজার এবং তাড়াইল সড়কের চৌরাস্তা এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম প্রধান সড়ক।

‎স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গবাজারের অদূরেই অবস্থিত ফকির অটো রাইস মিল দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মিলটির ধান, চাল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করে ভারী ট্রাক ও মালবাহী যানবাহন। ফলে সড়কটির ওপর যানবাহনের চাপও তুলনামূলক বেশি।

‎তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে একাধিকবার সড়কটির সংস্কার কাজ হলেও কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যায় এবং বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


‎বর্ষায় বৃষ্টি হলে এই গর্তগুলোতে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়।যানবাহন চলাচল: বড় বড় গর্ত ও ভাঙা অংশের কারণে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহন নিয়মিত চলাচল করতে পারে না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। এই রাস্তা দিয়ে কুতুবপুর গ্রামে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ, পর্যটন স্পট ও প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি এবং ঐতিহাসিক রোয়াইলবাড়ী দুর্গ পরিদর্শনে পর্যটকদের যাতায়াত করতে হয়। খানাখন্দের কারণে পর্যটকরা ও গবেষকদের  চরম ভোগান্তির শিকার হন।

‎এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বারবার সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করার পরও কেন সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি পর্যাপ্ত মানসম্মত নকশা (এস্টিমেট), নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান এবং ভারী যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে?

‎স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হওয়ায় কেবল সাময়িক সংস্কার নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। তারা বলেন, সড়কের ভিত্তি (বেজ) শক্তিশালী করে, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্তকরণ, উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং ভারী যানবাহনের চাপ বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ করা হলে বারবার সংস্কারের প্রয়োজন হবে না। এতে যেমন সরকারি অর্থের সাশ্রয় হবে, তেমনি জনদুর্ভোগও কমে আসবে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, সরকার যেন বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যাপ্ত বরাদ্দের মাধ্যমে বঙ্গবাজার–কুতুবপুর সড়কটি আধুনিক ও টেকসইভাবে নির্মাণ বা প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন করে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, একটি পরিকল্পিত ও মানসম্মত সড়ক নির্মিত হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।

 

(মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল)