
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এআরডি (Association for Rural Development)-এর জাফলং শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানায় প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন নথিতে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত কামাল নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয় উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের কাওাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মোঃ কামাল হোসেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এআরডির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কাজী আলম বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মো. আইন উদ্দিনকে মামলা পরিচালনার ক্ষমতা প্রদান করেন।
পরে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে পুলিশ তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জাফলং শাখার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মো. কামাল হোসেন বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ, ঋণ আদায়ের টাকা এবং হিসাব সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে মোট ৬৪,৬১,৩৬৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও এ ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার সঙ্গে সংযুক্ত নথিতে দেখা যায়, অভিযুক্তের হিসাব থেকে ২৬ মে ২০২৫ তারিখে ৪০ লাখ টাকার এবং ৮ জুন ২০২৫ তারিখে ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৫ টাকার দুটি চেকের কপি সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়া নগদ অর্থ ও ক্যাশবুক সংক্রান্ত প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৮০ টাকা হিসাবেও অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এআরডি কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত আদায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মামলা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কামাল জানান,আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, সম্পূর্ণ, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দাযের করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক কাজী আলম জানান,অভিযুক্ত কামালের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার উপযুক্ত সকল তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে । মামলার নথিতে সকল তথ্য প্রমাণ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত রয়েছে। অর্থ আত্মসাৎকারী ও প্রতারক কামাল হোসেন আত্মপক্ষ সমর্থন করে যে বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তে তার অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়াও এ আর ডি এর নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন কামাল হোসেন একটা বড় ধরনের প্রতারক, সে যে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে তার প্রমাণ আছে, আদালতে তা প্রমাণ হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠান আদালতের মাধ্যমে সুবিচার পাবেন এবং আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান জানান,কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃফায়াজ উদ্দিন মামলাটি তদন্ত করছেন । তদন্ত শেষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
(মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল)
আপনার মতামত লিখুন :